1. bvoicenews24@gmail.com : bvoice24 :
  2. publisher8182@outlook.com : publisher81 :
  3. siteadmin7750@outlook.com : siteadmin77 :
  4. techsupport6516@gmail.com : techsupport65 :
শিরোনামঃ
পটিয়ায় পরিকল্পিতভাবে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে শামসুল ইসলাম ওরফে ‘সমসু চেয়ারম্যান দিনদুপুরে কর্পোরেট কর্মকর্তা অপহরণ: চট্টগ্রামে ‘অটোরিকশা গ্যাং’–এর দুর্ধর্ষ তৎপরতায় নিরাপত্তাহীনতায় নগরবাসী বহুদলীয় গণতন্ত্রের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী আজ দ্বায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে ঢাকার দুই শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত গ্লোবাল শ্যাডো ব্যাংকিং ও গোল্ডেন পাসপোর্টের আড়ালে এস আলম: সাইপ্রাসে সম্পত্তি ক্রোকের পর আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: ১২০০ কোটির ঋণ খেলাপি আমজাদ হোসেন কীভাবে চট্টগ্রাম চেম্বারের সহ-সভাপতি? বর্ণাঢ্য আয়োজনে চট্টগ্রামে ‘বাংলা টিভি’র ১০ম বর্ষপূর্তি উদযাপন মাইজভাণ্ডারী মানবতাবাদী দর্শন প্রসারে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা রাখছে গাউসিয়া হক কমিটি–৫ম কেন্দ্রীয় সম্মেলনে বক্তারা দুদকের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বহাল তবিয়তে সুবক্তগীন: হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ব্যাংক লুটের টাকায় কানাডায় প্রাসাদ-নেপথ্যে সেলিম রহমান–শামীম ইকবাল  

দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬
  • ৩০২ Time View

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সব স্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। তিনি গত শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী http://দুর্নীতি প্রতিরোধে বলেন, মানবাধিকার রক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সমাজে সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি প্রশাসনের সব স্তরে দুর্নীতি দমনে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। এ সময় তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রতি সমর্থন জানাতে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান। ইফতার অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই যে কয়েকটি প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত আচরণগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলো প্রথমে প্রতীকী মনে হতে পারে। রাজনীতিতে নেতারা কী প্রতিশ্রুতি দেন, তা দিয়ে নাগরিকেরা তাঁদের বিচার করেন না। তাঁরা বিচার করেন নেতারা কীভাবে জীবন যাপন করেন, কীভাবে আচরণ করেন এবং কীভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করেন, তা দিয়ে।

কিন্তু বাস্তবে এগুলো আরও গভীর এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। এটি বহু বছরের ঘুণে ধরা শাসন সংস্কৃতি বদলে দেওয়ার একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টারই ইঙ্গিত ।

দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র ও নাগরিকের দূরত্ব শুধু নীতিগত ব্যর্থতার কারণে বাড়েনি, ক্ষমতার দৃশ্যমান দাম্ভিকতা ও বৈষম্যের কারণেও বেড়েছে।

সাধারণ মানুষ দেখেছে মন্ত্রীরা দীর্ঘ গাড়িবহর নিয়ে চলাচল করছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়ক বন্ধ থাকছে, যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা মিস করছে, শ্রমিকেরা কাজের সময় হারাচ্ছে। সরকারি সেবা দায়িত্বের চেয়ে সুবিধার প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। এই বাস্তবতায় সংস্কার মানে কেবল নতুন নীতিমালা নয়, জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের প্রশ্ন।

তারেক রহমানের নির্দেশনাগুলো সরাসরি এই সংস্কৃতিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, মন্ত্রীরা আর বিলাসবহুল সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবেন না। তাঁরা সাধারণ সাদা টয়োটা গাড়িতে চলবেন এবং নিজেদের ব্যক্তিগত পরিবহনব্যবস্থাই ব্যবহার করবেন।

সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত চালক বা সরকারি জ্বালানি তাঁরা ব্যবহার করবেন না। অর্থাৎ সরকারি পদ ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য নয়, জনসেবার জন্য।

ভিভিআইপি প্রটোকলেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সীমিত থাকবে মাত্র চারটি গাড়িতে, যেখানে আগে ১২ থেকে ১৪টি গাড়ির বহর চলত। ভিভিআইপি চলাচলের সময় পুলিশ আর সড়ক বন্ধ করবে না।

কোটি মানুষের কাছে এটি কোনো ছোট প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়। এটি নাগরিক মর্যাদার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্র নাগরিকের জীবন থামানোর জন্য নয়, তাদের জীবন সহজ করার জন্য।

সবচেয়ে প্রতীকী সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিষয়ে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর গাড়িতে কেবল রাষ্ট্রীয় অতিথি বা বিদেশি প্রধানদের সফরের সময় জাতীয় পতাকা ব্যবহার করবেন। নিয়মিত চলাচলে পতাকা থাকবে না। বার্তাটি স্পষ্ট। জাতীয় পতাকা ব্যক্তির নয়, জাতির।

প্রশাসনিক সংস্কারের দিকটিও লক্ষণীয়। অধিকাংশ মন্ত্রিসভা বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নয়, সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এটি প্রশাসনকে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত।

একই সঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শনিবারও কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘসূত্রতা ও ফাইলজটের অভিযোগে ক্লান্ত প্রশাসনে এটি গতি আনার প্রতিশ্রুতি।

সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্তগুলো নেতৃত্বের একটি নতুন সংজ্ঞা তুলে ধরে।

বাংলাদেশের মানুষ বহুদিন ধরে শুধু আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগই করেনি, ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

ব্যক্তিগত আরামের জন্য সরকারি সম্পদ ব্যবহার, মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার, এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রদর্শনী ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে।

তারা দেখেছে রাষ্ট্র তাদের কাছ থেকে ত্যাগ চায়, কিন্তু ক্ষমতাধরদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করে।

তারেক রহমানের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো একটি মৌলিক সত্যকে স্বীকার করে। দুর্নীতি শুধু অর্থ আত্মসাৎ নয়, ক্ষমতার অপব্যবহারও দুর্নীতি।

মোটরকেড কমানো, অযথা আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা, বিলাসী সুবিধা বর্জন, এবং নাগরিক জীবনে বিঘ্ন কমানোর মাধ্যমে আসন্ন সরকার একটি বার্তা দিচ্ছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাশত করা হবে না।

রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের দিক থেকে এগুলোর আর্থিক মূল্য হয়তো সীমিত, কিন্তু নৈতিক মূল্য অত্যন্ত বড়। কারণ, এগুলো একটি মানদণ্ড স্থাপন করে। নেতাদের নাগরিকদের মতোই জীবন যাপন করতে হবে।

এই পদক্ষেপগুলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের তরুণ আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকেও প্রতিফলিত করে। তরুণেরা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন চায়নি। তারা চেয়েছিল ন্যায়, মর্যাদা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র। তারা একটি আধুনিক রাষ্ট্র চায়, সামন্ততান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। এমন একটি সরকার, যা তাদের সময়, চলাচল এবং ভবিষ্যৎকে সম্মান করে।

একবিংশ শতাব্দীতে রাজনৈতিক বৈধতা শুধু নির্বাচনে জয়ের ওপর নির্ভর করে না। তা নির্ভর করে ক্ষমতায় থাকাকালীন আচরণের ওপর। নাগরিকেরা এখন নেতৃত্বকে বিচার করে তাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে; রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল ও সেবাপ্রাপ্তির বাস্তবতার মাধ্যমে।

যখন একজন নেতার গাড়িবহর কোনো শ্রমিককে কারখানায় পৌঁছাতে বাধা দেয় না, বা কোনো অ্যাম্বুলেন্সকে আটকে রাখে না, তখন শাসনব্যবস্থা বাস্তব হয়ে ওঠে।

যদি এই সংস্কার ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং আমলাতন্ত্রে বিস্তৃত করা যায়, তাহলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের পথ খুলবে।

সংযমী মন্ত্রী, নিয়মমাফিক প্রশাসন, এবং নাগরিকের মতোই কষ্ট ভাগ করা নেতৃত্বই আধুনিক শাসনের ভিত্তি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ দরকার, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার জন্য দরকার উদাহরণ।

অবশ্যই প্রতীকী পদক্ষেপ দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

তবে ইতিহাস বলে, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রায়ই শুরু হয় নেতৃত্বের আচরণগত পরিবর্তন দিয়ে। শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের আচরণ বদলালে পুরো ব্যবস্থার ওপর শৃঙ্খলা দাবি করা সহজ হয়।

তারেক রহমানের প্রাথমিক সিদ্ধান্তগুলোর তাৎপর্য এখানেই। সরকারি পদ মর্যাদার নয়, সেবার।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও এগোতে পারে। দেশীয় নাগরিক, বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন সবখানেই এটি একটি বার্তা দেবে যে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা জবাবদিহি ও পূর্বানুমেয়তার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

অবশেষে একটি জাতি শুধু বড় প্রকল্পে গড়ে ওঠে না, দৈনন্দিন চর্চায় গড়ে ওঠে। ছোট গাড়িবহর, খোলা রাস্তা, সাধারণ গাড়ি এবং কর্মমুখী সপ্তাহান্তের মতো সিদ্ধান্তই বড় বার্তা দেয়। নেতৃত্ব জনগণের মতোই নিয়মের অধীন।

এই দৃষ্টান্ত বজায় থাকলে বাংলাদেশ শুধু প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে না, প্রতিষ্ঠানগতভাবে শক্তিশালী হবে। আর সেটিই তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি আধুনিক, অগ্রসর ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রকৃত ভিত্তি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026