
বিশেষ অর্থনৈতিক প্রতিবেদক:
ঋণ খেলাপিরা দেশের শত্রু, অর্থনীতি ধ্বংসের মূল কারিগর। বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে এবং দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে চরম কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু খোদ প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশনাকে প্রকাশ্য বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশের প্রথম সারির ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে বসে যাচ্ছেন চিহ্নিত ঋণ খেলাপিরা। আইনের তোয়াক্কা না করে তাদের এমন দাম্ভিক অংশগ্রহণ ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ব্যাংক ঋণ খেলাপির গুরুতর অভিযোগ ঘিরে আবারও টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী নেতা মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরী। সম্প্রতি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনে তিনি সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ঋণ খেলাপি হওয়ার অকাট্য অভিযোগ, যা দেশের অর্থনীতিতে এক বড় ধাক্কা।
এর আগে ঠিক এই ঋণ খেলাপির দায়ের কারণেই ‘বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (বিএসবিআরএ)-এর নির্বাচনী দৌড় থেকে লাঞ্ছিত হয়ে ছিটকে পড়েছিলেন আমজাদ হোসেন চৌধুরী। ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত ভয়াবহ জটিলতার কারণে সেখানে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল।
এখন তীব্র প্রশ্ন উঠেছে—যে ব্যক্তি ব্যাংক লুণ্ঠনের দায়ে একটি সংগঠনের নির্বাচনে অযোগ্য ও বহিষ্কৃত ঘোষিত হন, তিনি কোন অদৃশ্য শক্তির বলে, কার ইশারায় চট্টগ্রাম চেম্বারের মতো দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী সংগঠনের সহ-সভাপতি পদের চেয়ার দখল করেন?
একই অপরাধে এক জায়গায় নিষেধাজ্ঞা, অন্য জায়গায় রাজকীয় আসন—এই দ্বিচারিতা নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা কর্তাদের চরম গাফিলতি, জবাবদিহিতার অভাব ও যোগসাজশকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ী মহল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।
সৎ ব্যবসায়ী সমাজ ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে:
স্বচ্ছতার চরম অভাব: যেখানে সরকার খেলাপিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেখানে এমন প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন পুরো ব্যবসায়ী সমাজের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
তদন্ত দাবি: ব্যবসায়ী নেতৃত্বে সততা নিশ্চিত করতে হলে প্রার্থীদের আর্থিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং ব্যাংকের লোন প্রোফাইল আরও কঠোরভাবে যাচাই করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। কোনো খেলাপি যেন কোনোভাবেই পদের লোভ দেখিয়ে পার না পায়।
এই চাঞ্চল্যকর ও ১২০০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা সদুত্তর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ জনগণের দাবি, এই রহস্যজনক নীরবতা প্রকারান্তরে অপরাধের চাদর ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা। অনতিবিলম্বে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং আইনি তদন্ত না হলে দেশের ব্যাংকিং খাত ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ওপর থেকে মানুষের আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।
চূড়ান্ত বার্তা: রাষ্ট্র যেখানে খেলাপিদের দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, সেখানে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে ছাড় দেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। অর্থ আত্মসাৎকারী ও দেশের অর্থনৈতিক শত্রুদের অনতিবিলম্বে নেতৃত্ব থেকে অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে—এটিই এখন সময়ের জোরালো দাবি।