
দুদকের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বহাল তবিয়তে সুবক্তগীন: হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠতার সুবাদে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মোঃ সুবক্তগীন-এর বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, মেগা প্রকল্প থেকে কমিশন বাণিজ্য, বিদেশে অর্থ পাচার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও রহস্যজনকভাবে তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
মেগা প্রকল্প ও শেখ রেহানা কানেকশন
অভিযোগে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৯ মে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর থেকেই সুবক্তগীন রেলের প্রতিটি প্রকল্প থেকে ২০% হারে কমিশন নিতেন। এই কমিশনের ১০% তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানার নিকট পাঠাতেন। এই বিশেষ ‘কানেকশন’-এর কারণেই তাকে চট্টগ্রাম-দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের মতো বড় বড় মেগা প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) করা হতো।
বিপুল অবৈধ সম্পদ ও মানিলন্ডারিং
কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত হাজার কোটি টাকা সুবক্তগীন তার পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবের নামে কোটি কোটি টাকার এফডিআর এবং নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে রূপান্তর করেছেন। এছাড়া এই অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ছাত্র আন্দোলনে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ
বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের অন্যতম এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করার মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও তিনি গোপনে ফ্যাসিস্ট পরিবারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন এবং অবৈধ আয়ের একটি অংশ এখনো তাদের নিকট পাঠাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
৫০ কোটি টাকার ঘুষ ও বর্তমান অবস্থান
অভিযোগ উঠেছে, সাবেক যুবলীগ নেতা ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী গডফাদার হেলাল আকবর বাবর-এর ব্যবসায়িক পার্টনার শাহ আলমের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীকে ৫০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে তিনি মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) পদটি আঁকড়ে ধরে আছেন। বর্তমানেও রেলের সম্পদ অবৈধভাবে ইজারা দিয়ে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছেন এবং বর্তমান সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের অর্থ যোগানদাতা ও সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন।
ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
দুদক ও রেল মন্ত্রণালয়কে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে সুবক্তগীন বারবার প্রমোশন নিয়েছেন এবং পার পেয়ে গেছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (DGFI) এবং সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং আইনে সুক্ষ্ম অনুসন্ধান চালিয়ে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি পূর্বক গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।