1. bvoicenews24@gmail.com : bvoice24 :
  2. publisher8182@outlook.com : publisher81 :
  3. siteadmin7750@outlook.com : siteadmin77 :
  4. techsupport6516@gmail.com : techsupport65 :
শিরোনামঃ
পটিয়ায় পরিকল্পিতভাবে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে শামসুল ইসলাম ওরফে ‘সমসু চেয়ারম্যান দিনদুপুরে কর্পোরেট কর্মকর্তা অপহরণ: চট্টগ্রামে ‘অটোরিকশা গ্যাং’–এর দুর্ধর্ষ তৎপরতায় নিরাপত্তাহীনতায় নগরবাসী বহুদলীয় গণতন্ত্রের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী আজ দ্বায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে ঢাকার দুই শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত গ্লোবাল শ্যাডো ব্যাংকিং ও গোল্ডেন পাসপোর্টের আড়ালে এস আলম: সাইপ্রাসে সম্পত্তি ক্রোকের পর আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: ১২০০ কোটির ঋণ খেলাপি আমজাদ হোসেন কীভাবে চট্টগ্রাম চেম্বারের সহ-সভাপতি? বর্ণাঢ্য আয়োজনে চট্টগ্রামে ‘বাংলা টিভি’র ১০ম বর্ষপূর্তি উদযাপন মাইজভাণ্ডারী মানবতাবাদী দর্শন প্রসারে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা রাখছে গাউসিয়া হক কমিটি–৫ম কেন্দ্রীয় সম্মেলনে বক্তারা দুদকের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বহাল তবিয়তে সুবক্তগীন: হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ব্যাংক লুটের টাকায় কানাডায় প্রাসাদ-নেপথ্যে সেলিম রহমান–শামীম ইকবাল  

আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার কেডিএস চেয়ারম্যান খলিল, রাতেই হাসপাতালে ঠাঁই ন্যাশনাল ব্যাংকের সাত মামলায় অভিযুক্ত

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬২৩ Time View

জামিনের আশায় আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে সেখান থেকেই কারাগারে যেতে হলো চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক খলিলুর রহমানকে। ন্যাশনাল ব্যাংকের সাতটি মামলায় অভিযুক্ত এই শিল্পপতির বয়স ৮৫ বছর।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর আদালতে ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়ের করা মামলাগুলোতে জামিন চাইতে হাজির হন খলিলুর রহমান। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদেশের পর বিকেলে তাকে হাতকড়া ও হেলমেট পরিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম প্রতিদিনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর সন্ধ্যায় খলিলুর রহমানের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানানো হয়। এর পর পুলিশ প্রহরায় তাকে কারাগার থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তার চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন, গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) খলিলুর রহমানকে কারাগারে আনা হয়।

তিনি হাসপাতালে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাব পাওয়া না গেলেও হাসপাতালে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘কারাবিধি মেনে এভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় আইনের কোনো বাত্যয় হয়নি।’

আদালত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আজ সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) খলিলুর রহমানের আইনজীবীরা তার পক্ষে আবারও জামিন আবেদন করেন। তবে বিচারক সেই আবেদনও নাকচ করে দেন।

৮ মাস আগে আসে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

গত বছরের ২৪ মে ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মনোয়ারা সিকদার, সাবেক পরিচালক খলিলুর রহমানসহ মোট ১৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন গালিব। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন ব্রডওয়ে রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শরীফউজ্জামান খান, চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল, পরিচালক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি ও তওসিফ সাইফুল্লাহ্। এ ছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ রইস উদ্দিন, দেশ টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হাসান টেলিকম লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্রডওয়ে রিয়েল এস্টেটের শেয়ারহোল্ডার আরিফ হাসান, ন্যাশনাল ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারি ও সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম বুলবুল, একই ব্যাংকের সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ ওয়াদুদ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোসতাক আহমেদ ওরফে সি এম আহমেদ, সাবেক পরিচালক পারভীন হক সিকদার, পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক পরিচালক মাবরুর হোসেন এবং সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার রজব আলী।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংকের মহাখালী শাখা থেকে ব্রডওয়ে রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের নামে পূর্বপরিকল্পিতভাবে যোগসাজশে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৪৯০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত ঋণের মধ্যে ৪৬২ কোটি টাকা নগদে উত্তোলনের ব্যবস্থা করে ঋণের উদ্দেশ্যের বাইরে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে পুরো ৪৯০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

এ ঘটনায় ঋণ অনাদায়ী থাকায় গত বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ ১৭৮ কোটি ৮৯ লাখ ১১ হাজার ৪১২ টাকা আদায় না হওয়ায় ব্যাংকের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

৪০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় খলিলসহ আসামি ১৬

কোভিড মহামারির সময় প্রণোদনার ঋণের ৪০৪ কোটি টাকা আত্মসাতে সহায়তার অভিযোগেও কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। গত বছরের মে মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা ওই মামলায় সিকদার পরিবারের চার সদস্যসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়।

মামলায় তৎকালীন ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক মনোয়ারা সিকদার, পারভীন হক সিকদার, রন হক সিকদার ও রিক হক সিকদারকে আসামি করা হয়। দুদকের উপপরিচালক রাম প্রসাদ মন্ডল মামলাটি দায়ের করেন। এতে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়।

এই মামলায় ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পরিচালকদের মধ্যে কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ছাড়াও মাবরুর হোসেন, মো. নায়মুজ্জামান ভুইয়া মুক্তা ও মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম রয়েছে। বর্তমান পরিচালকদের মধ্যে আসামি করা হয় জাকারিয়া তাহেরকে। মো. নায়মুজ্জামান ভুইয়া মুক্তা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য।

এ ছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে মো. একরামুল হক, মো. হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ আবু রাশেদ নোয়াব, এ এস এম বুলবুল এবং চৌধুরী মোসতাক আহমেদ ওরফে সি এম আহমেদকেও আসামি করা হয়। মামলার আসামি তালিকায় আরও আছেন সাদ মুসা হোমটেক্স অ্যান্ড ক্লথিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোহসিন এবং রেডিয়াম কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, মোহাম্মদ মোহসিন ও মঈন উদ্দিন যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই প্রণোদনার ঋণ গ্রহণ করেন। ন্যাশনাল ব্যাংকের তৎকালীন শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন যাচাই না করেই রেডিয়াম কম্পোজিটের নামে ৪০৪ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই অর্থ একাধিক ধাপে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়। ওই অর্থ দিয়ে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে চারটি বাণিজ্যিক ফ্লোর কেনা হয়, সাদ মুসা গ্রুপের আগের ঋণ ও কিস্তি পরিশোধ করা হয় এবং এলসির দায় মেটানো হয়। এতে ঋণের শর্ত ভেঙে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং সংঘটিত হয়েছে বলে দুদকের প্রাথমিক ধারণা।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, রেডিয়াম কম্পোজিটের নামে মোট ৪০৪ কোটি টাকার সিসি হাইপো, টার্ম লোন ও প্রণোদনার ঋণ অনুমোদন হয়। এর মধ্যে ৩৭৪ কোটি টাকা অন্য কোম্পানিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঋণের অর্থ ফেরত না আসায় ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩৩ কোটি টাকায়। এ মামলার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর মোহাম্মদ মোহসিনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

২০০৯ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কার্যত সিকদার গ্রুপের একক নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026